ঈমান হলো আল্লাহ তাআলা ও রাসূল ﷺ যে বিষয়গুলো বিশ্বাস করতে বলেছেন, সেগুলো অন্তর দিয়ে সত্য বলে মানা।
যেমন: আল্লাহ তাআলা এক, কুরআন আল্লাহ তাআলার কিতাব, মুহাম্মাদ ﷺ শেষ নবী, কিয়ামত হবে, জান্নাত-জাহান্নাম সত্য—এসব বিশ্বাস করা ঈমানের অংশ।
আর আকিদা হলো এসব বিশ্বাসের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও সঠিক ধারণা।
সহজভাবে বললে, ঈমান হলো মূল বিশ্বাস। আর আকিদা হলো সেই বিশ্বাসের সঠিক রূপ ও ব্যাখ্যা।
যেমন কেউ বিশ্বাস করল—আল্লাহ আছেন। এটা ঈমানের বিষয়।
কিন্তু আল্লাহ কেমন? তিনি এক, তাঁর শরীক নেই, তিনি মাখলুকের মতো নন, তিনি সব জানেন, সব দেখেন—এসব হলো আকিদার বিস্তারিত বিষয়।
তাই ঈমান আর আকিদা একেবারে আলাদা নয়। বরং আকিদা ঈমানেরই বিস্তারিত আলোচনা।
এখন প্রশ্ন হলো, কারো আকিদা খারাপ হলে কি সে কাফের হয়ে যাবে?
এর উত্তর হলো—সব খারাপ আকিদার কারণে মানুষ কাফের হয়ে যায় না। কিছু ভুল আকিদা আছে, যেগুলো গোমরাহি ও বড় গুনাহ; কিন্তু মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে না। আবার কিছু আকিদা আছে, যেগুলো সরাসরি কুফরি। যেমন আল্লাহ তাআলাকে অস্বীকার করা, নবী ﷺ-কে শেষ নবী না মানা, কুরআনকে আল্লাহ তাআলার কালাম না মানা, ফরজ বিধানকে অস্বীকার করা—এগুলো কুফরি আকিদা।
তাই কাউকে শুধু “তার আকিদা খারাপ” শুনেই কাফের বলা যাবে না। আগে বুঝতে হবে—তার ভুলটা কোন পর্যায়ের। কুফরি পর্যায়ের, নাকি গোমরাহি পর্যায়ের।
জাহান্নামের বিষয়েও একই কথা। কেউ যদি কুফরি আকিদা নিয়ে মারা যায়, তাহলে বিষয়টি ভয়ংকর। আর যদি ভুল আকিদা থাকে, কিন্তু সে ইসলাম থেকে বের না হয়, তাহলে সে গুনাহগার বা গোমরাহ হতে পারে। তার চূড়ান্ত ফয়সালা আল্লাহর হাতে।
قال الله تعالى: ﴿آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ﴾
سورة البقرة، الآية: ٢٨٥
قال رسول الله ﷺ: «الإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ»
صحيح مسلم، كتاب الإيمان، رقم الحديث: ٨
لَا يُفْتَى بِكُفْرِ مُسْلِمٍ أَمْكَنَ حَمْلُ كَلَامِهِ عَلَى مَحْمَلٍ حَسَنٍ
حاشية ابن عابدين = رد المحتار ط الحلبي ٤/٢٢٩