৮২৪
যৌথ ফ্যামিলিতে পর্দা পালনে ব্যাঘাত ঘটলে করণীয়
প্রশ্নঃ ৮২৪. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আমি শশুড় বাড়িতে যৌথ ফ্যামিলিতে থাকি। এক উঠোনে ৪ টা বাড়ি। আমার শশুড় তরিকা পন্থি আলেম কিন্তু পর্দার বিষয়ে শিথিল। শুরু থেকে যৌথ ফ্যামিলি হওয়ায় আমার শাশুড়ীকেও আমার চাচা শশুড়দের সাথে দেখা করতে হয়েছে এখনো হচ্ছে। কিন্তু আমি শুরু থেকেই বলে আসছি গাইরে মাহরাম কারো সাথে দেখা করবো না তারাও মেনে নিয়েছে। কিন্তু যৌথ ফ্যামিলি হওয়ায় আমার পর্দা করতে খুব সমস্যা হয়। গ্রামের বাড়ি, ঘর থেকে রান্নাঘর কিছুটা দূরে। যাওয়া আসার পথে প্রায়ই দেবরের সাথে দেখা হয়ে যায়৷ আমি ঢাকা দিয়ে থাকি তবুও খারাপ লাগে। চাচা শশুড়রা জমিতে চাষ করে তাই অধিকাংশ সময়ে বাড়িতে থাকে। তারা তাদের কাজে থাকে তখন আমার চলাফেরা করতে ভিষণ সমস্যা হয়। দিনে কয়েকবার তাদের সামনে পরা হয়। শাশুড়ী বলে হিজাব পরে কাজ করতে। এত গরমে সব সময় হিজাব পরে থাকা যায় না। তবুও চেষ্টা করি যেন সামনে না পরে কেউ কিন্তু এটা হয়ই না। আবার চাচা শশুড়দেরও বলা যাবে না যে আমার জন্য তারাও একটু সরে থাকুক। সবাইই আলেম কিন্তু পর্দার বিষয়ে একেবারেই শিথিল। তাদের কাছে কাজটাই বড়। কাজের জন্য সব করতে হবে। বর্তমানে বিষয়টা এমন হয়েছে যে আমি পর্দা করি এই জিনিসটাই হাস্যকর হয়ে গেছে। দিনে এত পরিমান তাদের সামনে পরা হয় যে আমার নিজেরই মনে হয়না আমি পর্দা করি। আমার হাসবেন্ড এসব মানতে পারে না কিন্তু কিছু বলতেও পারছে না। মাঝে মাঝে আলাদা হয়ে যেতে চায় কিন্তু আমি ভয় পাই। শশুড় শাশুড়ী কষ্ট পাবে। তারা ভাববে আমার কথায় হয়তো ছেলে আলাদা হয়েছে। আমার শশুড় শাশুড়ী জানে বুঝে যে আমার সমস্যা হয় কিন্তু তারা এটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। তারা চায় আমি খিমার পরে কাজ করি তাহলে আমার মুখ দেখা যাবে না। আচ্ছা, খিমার পরে চাচা দেবরের সামনে হেঁটে চলে কাজ করে যাবো এটাই পর্দা? আমি আমার খালু, ফুফা, কাজিন কারো সাথেই দেখা করিনা। এসবে অভ্যস্ত না। কেউ সামনে পরলে খুব খারাপ লাগে। চিৎকার করে কান্না করতে ইচ্ছে করে।শশুড় শাশুড়ীকে বুঝানো যাবে না তারা সব জানে বুঝে দেখছে। এছাড়া, এখন আমার করণীয় কি? কি করা উচিত? পর্দার জন্য আলাদা হয়ে যাওয়া কি ঠিক হবে?
দ্বীন ও পর্দা রক্ষার স্বার্থে আপনার স্বামীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আলাদা হয়ে যাওয়াই সঠিক ও উত্তম হবে।
কারণ, দেবর ও চাচা শ্বশুরের সামনে এভাবে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করা শরয়ী পর্দা নয়। নিজের ঈমান ও আমল বাঁচানোর জন্য এবং গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য পৃথক আবাসের ব্যবস্থা করা কোনো গুনাহ নয়। শ্বশুর-শাশুড়ির মনে কষ্ট পাওয়ার ভয়ে আল্লাহর ফরজ বিধান পর্দা লঙ্ঘন করা জায়েজ হবে না। অতএব, পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করে, শুধু থাকার ও রান্নার জায়গাটি আলাদা করে নেওয়া উচিত।
ততদিন পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে গরম লাগলেও ঢিলেঢালা খিমার বা চাদর ব্যবহার করে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে চলবেন।