ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় তাবিজ এবং তামিমার মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
তামীমা (التَّمِيمَةُ) হলো জাহেলী যুগের একপ্রকার কুসংস্কার। সেকালে আরবরা অনিষ্ট, কুদৃষ্টি বা জিন-ভূত থেকে বাঁচার জন্য পুতি, সুতা, কড়ি, সামুদ্রিক শামুক বা ঝুলন্ত হাড়ের টুকরো দিয়ে একধরণের মালা তৈরি করে শিশুদের গলায় বা পশুর শরীরে ঝুলিয়ে দিত। তারা বিশ্বাস করত, এই জড় বস্তুগুলোর নিজস্ব ক্ষমতা রয়েছে ক্ষতি দূর করার। হাদীসে এই তামীমাকে সরাসরি শিরক বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রচলিত সাধারণ তাবিজ (التَّعْوِيذُ) হলো কোনো রোগ বা অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার উদ্দেশ্যে কোনো কিছু ঝুলানো বা শরীরে ধারণ করা। ওলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাবিজের হুকুম এর ভেতরের বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যদি তাবিজে শিরকী কালাম, কুফরী নকশা, জাদুটোনা বা অজ্ঞাত ভাষার কিছু লেখা থাকে, তবে তা হারাম ও শিরক। কিন্তু তাবিজে যদি স্পষ্ট অক্ষরে আল্লাহর নাম, কোরআনের আয়াত বা হাদীসের বিশুদ্ধ দোয়া লেখা থাকে, তবে তা জায়েজ।
قال الله تعالى: ﴿وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ﴾
سورة الإسراء، الآية: ٨٢
قال رسول الله ﷺ: «إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ»
سنن أبي داود، كتاب الطب، رقم الحديث: ٣٨٨٣
سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - ﷺ - يَقُولُ:» إِنَّ الرُّقَى): أَيْ: رُقْيَةٌ فِيهَا اسْمُ صَنَمٍ أَوْ شَيْطَانٍ أَوْ كَلِمَةِ كُفْرٍ أَوْ غَيْرِهَا مِمَّا لَا يَجُوزُ شَرْعًا، وَمِنْهَا مَا لَمْ يُعْرَفْ مَعْنَاهَا (وَالتَّمَائِمَ): جَمْعُ التَّمِيمَةِ وَهِيَ التَّعْوِيذَةُ الَّتِي تُعَلَّقُ عَلَى الصَّبِيِّ أَطْلَقَهُ الطِّيبِيُّ، لَكِنْ يَنْبَغِي أَنْ يُقَيَّدَ بِأَنْ لَا يَكُونَ فِيهَا أَسْمَاءُ اللَّهِ تَعَالَى، وَآيَاتُهُ الْمَتْلُوَّةُ، وَالدَّعَوَاتُ الْمَأْثُورَةُ، وَقِيلَ: هِيَ خَرَزَاتٌ كَانَتْ لِلْعَرَبِ تُعَلَّقُ عَلَى الصَّبِيِّ لِدَفْعِ الْعَيْنِ بِزَعْمِهِمْ، وَهُوَ بَاطِلٌ، ثُمَّ اتْسَعُوا فِيهَا حَتَّى سَمُّوا بِهَا كُلَّ عَوَذَةٍ ذَكَرَهُ بَعْضُ الشُّرَّاحِ
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح ٧/٢٨٧٨
إنَّمَا تُكْرَهُ الْعُوذَةُ إذَا كَانَتْ بِغَيْرِ لِسَانِ الْعَرَبِ، وَلَا يُدْرَى مَا هُوَ
حاشية ابن عابدين = رد المحتار ط الحلبي ٦/٣٦٣